মানুষ হিসেবে আমাদের যত গুণ আছে তার মধ্যে প্রতিটি কাজে, প্রতিটি মুহূর্তে এই সহনশীলতা গুণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, "কেউ যদি আমার অনুগামী হতে চায়, তবে সে আত্মত্যাগ করুক এবং নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে আমার অনুসরণ করুক" (মথি ১৬:২৪)। এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে একজন বিশ্বস্ত খ্রীষ্টভক্তের জীবনে নানারকম বিপদ আপদ, দুঃখযন্ত্রণা, অন্তর্জালা ইত্যাদি আসবেই। যীশুর নামে সেগুলো সহ্য করতেই হবে। এগুলো তার জীবনে আসবে কারণ সে যীশুকে ভালোবাসে।
সহনশীলতা আসে একটি ল্যাটিন শব্দ patiencia থেকে, যার অর্থ 'কষ্ট করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা'। অনেক কিছুই আছে যেগুলো আমরা চাই বা না-চাই, আমাদের সহ্য করতেই হয়। যেমন রান্না বসিয়ে অপেক্ষা করা, পড়াশুনার জন্য সময় দেওয়া, পরীক্ষায় লিখে ফলের জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করা, ক্ষেতে ফসল বুনে কয়েক মাস অপেক্ষা করা, রাস্তার যানজটে আটকে থাকা, টিকিট কাটার জন্য কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ইত্যাদি। এগুলোর জন্য সময় প্রয়োজন হয়। তাড়াহুড়া করলে কাজ ঠিকমতো হয় না। এছাড়া, ভিড়ের রাস্তায় তাড়াতাড়ি হাঁটতে গিয়ে আমাদের সহনশীল হতে হয়। যখন আমাদের তাড়াতাড়ি যেতে হয় বলে বাসে বা রিকশায় উঠি আর বাসের ড্রাইভার বা রিকসাওয়ালা যদি দ্রুত না-চালায় তবে আমরা অনেক সময় অধৈর্য হয়ে যাই। এসময়ও আমাদের সহনশীল হতে হয়।
সমাজবদ্ধ মানুষ হিসেবে সহনশীলতার গুণটি চর্চা করে আমরা প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারি, হতে পারি অনেকের কাছে অনুকরণীয়। পরিবারে, বিদ্যালয়ে, খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডায়-সব জায়গাতে ও সব কাজে আমাদের সহনশীল হতে হবে।

সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সময় সহনশীলতা দেখাতে হবে। অন্যের মতামতকে সম্মান জানাতে হবে। বিশেষভাবে রাস্তায় চলাচলের সময় অপরিচিত কারো সাথে কথা বলার সময় আমাদের সংযত আচরণ করতে হবে, সহনশীল হতে হবে।
কখনো কখনো আমরা প্রার্থনা করে সাথে সাথে ফল চাই। তখন আমাদের মনে রাখতেই হয়, ঈশ্বর যখন চাইবেন তখন আমার চাওয়াটা পূরণ করবেন।
Read more